সঞ্চয়পত্র পেল দীপু দাসের পরিবার, তবুও সন্তুষ্ট নয় পরিবার,টাকা পেয়েছি, কিন্তু বিচার চাই’—দীপু দাসের পরিবারের আক্ষেপ
নিজস্ব প্রতিবেদক,
ময়মনসিংহের ভালুকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এই সঞ্চয়পত্র তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবার এই সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানায়। একই সঙ্গে তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের মা শেফালী রানী দাস বলেন, সরকার তাদের ২৫ লাখ টাকা দিয়েছে, এজন্য তারা কৃতজ্ঞ। তবে তিনি দীপুর স্ত্রীর জন্য একটি চাকরিরও দাবি জানান। পাশাপাশি ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতিতেও তারা সন্তুষ্ট নন।
নিহতের বাবা রবি লাল চন্দ্র দাস বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার একটাই অনুরোধ—আমার ছেলে হত্যার কঠিন বিচার চাই।’
দীপু চন্দ্র দাসের স্ত্রী মেঘনা রবিদাসও একই দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমার কিছু বলার নেই। আমি শুধু আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের সহমুখপাত্র কুশল বরণ চক্রবর্তী বলেন, অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় এ ধরনের আর্থিক সহায়তা খুব কমই দেখা গেছে। এ জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
জোটের প্রতিনিধি সুমন রায় বলেন, একই ঘটনায় হামলার শিকার হয়ে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে রাষ্ট্র যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছে, দীপু চন্দ্র দাসের ক্ষেত্রে সেই সমান গুরুত্ব দেখা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জোটের প্রতিনিধি প্রসেনজিৎ কুমার হালদারসহ অন্যরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার্স নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে কারখানা থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ বিবস্ত্র অবস্থায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তার বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামে।



%20.png)
No comments: